ছাগল চুরির সন্দেহে স্টোন ম্যানের আদলে ভিন জেলার ঠিকাদার শ্রমিককে খুন - The News Lion

ছাগল চুরির সন্দেহে স্টোন ম্যানের আদলে ভিন জেলার ঠিকাদার শ্রমিককে খুন




দি নিউজ লায়ন ;    ছাগল চুরির সন্দেহে স্টোন ম্যানের আদলে ভিন জেলার ঠিকাদার শ্রমিককে খুন। টানা চারদিন চা বাগানে ঘাঁটি গেড়ে অভিযুক্ত গণেশ বড়াইককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার শিলিগুড়ি প্রধান নগর থানার পুলিশের। দ্রুত জটিল খুনের মামলার তদন্তকাজের সাফল্যের জন্য শিলিগুড়ি প্রধান নগর থানার সাব ইস্পেসকটর সঞ্জয় ঘোষেকে পুরস্কৃত করার জন্য কমিশনারের পাঠানো হবে সুপারিশ। মৃতদেহের পাশে মেলে পাথরের চাই, মৃতদেহের  নাক কান ও মাথায় আঘাত চিহ্ন শনাক্ত করে পুলিশ।


 প্রসঙ্গত বেশ কয়েকদিন আগে শিলিগুড়ি গুলমা চা বাগানে নাক কানে ক্ষতচিহ্ন সমেত একটি অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদেহ উদ্ধার হয়।মৃতদেহের পাশ থেকে একটি পাথরের চাইও উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই  প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে শিলিগুড়ি প্রধান নগর থানার পুলিশ একটি খুনের মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে। অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদেহটি মেলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃতের পরিচয় জানতে সক্ষম হয় পুলিশ। 


জানা যায় মৃতের নাম সুজন হাঁসদা। বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর কুমার গ্রামে। গুলমা চা বাগান সংলগ্ন এলাকা শিলিগুড়ি দাগাপুরের  নির্মাণকাজে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত ছিল সে। এদিকে বেশ কয়েক দিন ধরে ওই চা বাগান এলাকায় বেশ কয়েকটি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটে। জানা যায় গত ১৮ই নভেম্বর তার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় আগের রাতে সুজন এলাকা থেকে ছাগল চুরি করেছে এমন সন্দেহ করে পাকড়াও করে অভিযুক্ত গণেশ। দুজনের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে তুমুল বচসা বাঁধে, একে অপরের ওপর চড়াও হয় তারা। 


সেসময় প্রথম পর্যায়ে এলাকাবাসীরা দুজনের মাঝের হাতাহাতি থামিয়ে দেয়। রাত বাড়ায় গ্রামবাসীরা সেই এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও জনগণের সেখানেই ছিল। এরপরই অভিযুক্ত গণেশ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ব্যক্তিগত আক্রোশে মর্মান্তিক ভাবে মাটিতে থাকা একটি পাথরের চাই তুলে নাকে কানে ও মাথায় পর-পর আঘাত করতে লাগে সুজনের। ক্রমাগত তিন থেকে চারবার পাথরের চাইয়ের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয় তার। 


শনিবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও  তাকে জিজ্ঞাসাবাদের করায় পুরো বিষয়টি সে স্বীকার করেছে বলে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি পশ্চিম কুওয়ার ভূষন সিং ও এসিপি চিন্ময় মিত্তল। এদিন ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হয়। পাশাপাশি ডিসিপি কুওয়ার ভূষন সিং জানান পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত কার্য শেষ করেছে। 


ঘটনার পর থেকে তদন্তকারী আধিকারিকের নেতৃত্বে ওই চা বাগান এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে বসে ছিল প্রধান নগর থানার সাদা পোশাকের পুলিশ।  তদন্তকারী আধিকারিককে এই ঘটনার বিষয়ে পুরস্কৃত করার বিষয়েও চিন্তা ভাবনা করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিক সঞ্জয় ঘোষ এর নাম সম্মান প্রদানের জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.